মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে ‘‘কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (পিবিএম)’’ বাসত্মবায়ন সংক্রামত কার্যক্রমসমূহঃ

 

SPBMS হচ্ছে School Performance Based Management System অর্থাৎ বিদ্যালয় কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সংক্ষেপে PBM)। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যবহারের নিমিত্তে বিদ্যালয়ে কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য একটি অভিন্ন সাধারণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ে উন্নয়ন পরিকল্পণা গ্রহণ, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও বাসত্মবায়ন, অগ্রগতি পরিমাপ, প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ এবং পূণরায় পরিকল্পণা গ্রহণ চক্রাকারে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

 

পিবিএম এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। শাস্তিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে গঠণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে সহায়তা করা। এই পদ্ধতি বাসত্মবায়নের মাধ্যমে সঠিকভাবে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের যোগ্যতার জন্য স্বীকৃত ও মূল্যায়িত হবে এবং মৌলিকভাবে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চিনি্হত (র‌্যাংকিং) করা সম্ভবপর হবে এবং ন্যূনতম জাতীয় পিবিএম মান অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবস্থা ও কৃতিত্ব উন্নয়নের লক্ষ্যে যথাযথ লক্ষ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

 

সাতটি নির্দেশকের উপর ভিত্তি করে বিদ্যালয়ে কৃতিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা পিবিএম কার্যক্রম বাসত্মবায়নে সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। নির্দেশক সাতটি হচ্ছে-

 

01.     শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ,

02.    প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত,ব

03.    ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকারিতা,

04.     শিক্ষকের পেশাদারিত্ব,

05.    শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব,

06.    সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী,

07.    অভিভাবক-শিক্ষক সম্পর্ক।

 

বিদ্যালয় ভিত্তিক মূল্যায়নবা এসবিএ পদ্ধতি বাসত্মবায়ন সংক্রামত্ম কার্যক্রম সমূহঃ

 

মূল্যায়ন শিখন-শেখানো কার্যক্রমের একটি সমন্বিত অংশ। বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন দুভাবে করা হয়। একটি হচ্ছে বিদ্যালয় পরিচালিত অভ্যমত্মরীণ মূল্যায়ন এবং অপরটি হচ্ছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত মূল্যায়ন। বিদ্যালয়ে বিষয় শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত মূল্যায়ন হচ্ছে বিদ্যালয় ভিত্তিক মূল্যায়ন বা School Based Assessment (SBA)। শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত মূল্যায়ন হচ্ছে বহিঃস্থ মূল্যায়ন যা এস.এস.সি পরীক্ষা নামে পরিচিত। বাংলাদেশে বিদ্যালয় ভিত্তিক মূল্যায়ন লিখিত ও মুখসত্ম নির্ভর। এই পদ্ধতির আওতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ সীমিত। শিক্ষার্থীদের কিছু প্রত্যাশিত ব্যক্তিক ও সামাজিক গুণাবলী যেমন- শিখনে আগ্রহ, সততা ও মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়নতা, দেশপ্রেম ইত্যাদি মূল্যায়নের সুযোগ নেই।

 

এস.বি.এ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মূল্যায়ন। এস.বি.এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীর গঠণকালীন বা ধারাবাহিক মূল্যায়নকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীর শিখনের অগ্রগতি নিরূপণ বা পরিমাপ এর মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীর শিখনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষনে রাখেন, মূল্যায়ন করেন এবং এর রেকর্ড সংরক্ষণ করেন। শিক্ষক শ্রেণীতে পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থী পাঠ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছে কিনা তাৎক্ষনিকভাবে তা মূল্যায়ন করেন। শিক্ষার্থীর দুর্বল দিকগুলো চিহ্ণিত করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। শিক্ষাক্রমের নির্দেশনা মোতাবেক এস.বি.এ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জিত দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এগুলো হচেছ-

 

ক. চিমত্মন দক্ষতা

খ. সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতা

গ. ব্যক্তিক দক্ষতা

ঘ. যোগাযোগ দক্ষতা

ঙ. সহযোগিতামূলক দক্ষতা এবং

চ. সামাজিক দক্ষতা।

 

সরকারী সিদ্ধামত্ম অনুসারে বিদ্যালয় ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১০টি পরিমাপকের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সারা বছর মূল্যায়ন করা হবে। পরিমাপকমূহ হচ্ছে-

 

01.     শ্রেণীতে উপস্থিতি ও শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ

02.    শ্রেণীভিত্তিক মূল্যায়ন

03.    এ্যাসাইনমেন্ট (একক/দলভিত্তিক)

04.     আচরণ, মূল্যবোধ ও সততা

05.    বক্তব্য উপস্থাপন(একক/দলভিত্তিক)

06.    নেতৃত্বের গুনাবলী

07.    নিয়মানুবর্তীতা

08.    সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ

09.    খেলাধুলায় কৃতিত্ব এবং

10.     বিজ্ঞান বিষয়ক ব্যবহারিক ক্লাশ

 

বিদ্যালয় ভিত্তিক মূল্যায়ন তিনটি কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়ে থাকে; যথা-

(ক) কোর্সওয়ার্ক, (খ) কোর্সওয়ার্ক বহির্ভূত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য কার্যক্রম এবং(গ) সাময়িক পরীক্ষা।

 

কোর্সওয়ার্ক সংক্রামত কার্যক্রমঃ

 

কোসওয়ার্ক হচ্ছে সিলেবাস বা পাঠ্যসূচীর আওতাভূক্ত কাজ যা শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিদ্যালয়ে  ও বাড়ীতে সম্পন্ন করবে। কোর্সওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপরোক্ত ১০টি পরিমাপকের মধ্যে বর্তমানে ৬টি ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়। এই কোর্সওয়ার্কে প্রতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নম্বর হবে ৩০%। কোর্সওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যেসব অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে তার দক্ষতাসমূহ হচ্ছে-

 

ক্রঃ নং

কোর্সওয়ার্ক বা ক্ষেত্র

অর্জিত দক্ষতা

০১

শ্রেণী অভীক্ষা

চিমতন, ব্যক্তিক, সহযোগিতামূলক ও সমস্যা সমাধান

০২

শ্রেণীর কাজ ও ব্যবহারিক কাজ

চিমতন

০৩

বাড়ীর কাজ

চিমতন ও ব্যক্তিক উন্নয়

০৪

নির্ধারিত কাজ

চিমতন, ব্যক্তিক, সহযোগিতামূলক ও সমস্যা সমাধান

০৫

মৌখিক উপস্থাপনা

যোগাযোগ

০৬

দলগত কাজ

ব্যক্তিক, সহযোগিতামূলক সামাজিক

 

 

সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি সংক্রামত কার্যক্রমঃ

 

মুখস্থ নির্ভর ও অনির্ভরযোগ্য এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যহীন পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমানে প্রবর্তিত উদ্দীপক ও দৃশ্যকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, উচ্চতর চিমতন দক্ষতা এবং মূল্যায়ন উপযোগী প্রশ্নপদ্ধতিকে সাধারণভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি বলা হয়। একটি সৃজনশীল প্রশ্নে উদ্দীপকের উপর ভিত্তি করে চারটি অংশে ভাগ করে সৃজনশীল প্রশ্ন করা হয়। যেমন-

 

অংশ

দক্ষতা স্তর

নম্বর

অংশ(ক)

জ্ঞান স্তর(তথ্য স্মরণ করা)

০১

অংশ (খ)

অনধাবন স্তর (বিষয়বস্ত্ত বুঝেছে কিনা তা যাচাই করা)

০২

অংশ (গ)

প্রয়োগ স্তর পাঠ্যপুস্ত্তক থেকে আহরিত জ্ঞান নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে কিনা তা যাচাই করা)

০৩

অংশ (ঘ)

উচ্চতর ক্ষমতার স্তর (অর্থাৎ শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সিদ্ধামত ক্ষমতা ইত্যাদি যাচাই করা)

০৪

 

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এর কর্মপরিধিঃ

 

01.      জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ক্লাস্টারের ভিত্তিতে) এর একাডেমিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মাসিক ভিত্তিতে পরিদর্শন করা ও প্রতিষ্ঠান সমূহকে সার্বিক সহায়তা দান তত্ত্বাবধান করা।

02.      জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী (যেমন- পিবিএম, এসবিএ, সিকিউ) বাসত্মবায়নের দায়িত্ব পালন করা।

03.     মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের একাডেমিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মাত্রার বিপরীতে বাসত্মব অর্জন পর্যালোচনা করা এবং নিবিড় পরিদর্শনের মাধ্যমে একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাসত্মবায়নে প্রতিষ্ঠানসমূহকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা।

04.      আওতাধীন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে একটি ক্লাস্টারের আওতায় এনে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের তাদের প্রতিষ্ঠানে পিবিএম, এসবিএ ও সিকিউ পদ্ধতি বাসত্মবায়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদানের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর্মশালার আয়োজন করা।

05.      আওতাধীন মাধ্যমিক সত্মরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ  ও প্রতিস্বাক্ষরের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পেশ করা।

06.     আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক উন্নয়নের জন্য প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংযোজন, বিয়োজন ও বাসত্মাবায়নের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকগণকে নিয়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর্মশালার আয়োজন করা।

07.      আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিবিএম, এসবিএ ও সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি ইত্যাদি বাসত্মবায়নের জন্য সুনিদিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থিরকরণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রণীত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতঃ প্রতিস্বাক্ষরের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে রিপোর্ট পেশ করা।

08.      উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভিশন ইউনিটের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা।

09.      উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়ামত্মরে অর্পিত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা।